মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
ইউনিয়ন কৃষি আফিস

ইউনিয়ন কৃষি অফিস

  • কী সেবা কীভাবে পাবেন
  • প্রদেয় সেবাসমুহের তালিকা
  • সিটিজেন চার্টার
  • সাধারণ তথ্য
  • সাংগঠনিক কাঠামো
  • কর্মকর্তাবৃন্দ
  • তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা
  • কর্মচারীবৃন্দ
  • বিজ্ঞপ্তি
  • ডাউনলোড
  • আইন ও সার্কুলার
  • ফটোগ্যালারি
  • প্রকল্পসমূহ
  • যোগাযোগ

কি সেবা কিভাবে পাবেন

-মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের চাহিদাভিত্তিক ফলপ্রসূ সম্প্রসারণ সেবা প্রদান করা হয়।

- মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক তথ্য দেয়া হয়।

সিটিজেন চার্টার

ক্রঃ নং

সেবার নাম

সেবা প্রদানের সময়সীমা

সেবা প্রদানের পদ্ধতি

সেবা প্রদানের স্থান

০১

কৃষি / অকৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত, পেরীফেরীভূক্ত হাট-বাজার একসনা বন্দোবস্ত ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমি সংক্রামত্ম বিষয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) হতে প্রাপ্তির পর ৩ (তিন) দিনের মধ্যে।

উপজেলা ভূমি অফিস হতে প্রসত্মাব প্রেরণের পর উপজেলা নির্বাহী অফিস হতে প্রসত্মাবটি সুপারিশ সহকারে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ে অগ্রবর্তী করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়।

০২

ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত বরাদ্ধে গৃহীত প্রকল্প     বাস্তবায়ন কার্যক্রম (টি.আর, কাবিখা, কাবিটা ও ত্রাণ সামগ্রী)।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হতে প্রসত্মাব প্রাপ্তির পর ২ (দুই) দিনের মধ্যে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিকট থেকে প্রসত্মাব প্রাপ্তির পর সভায় সিদ্ধামত্ম গ্রহণ করতঃ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস।

০৩

এল.জি.ই.ডি কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত প্রকল্প, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঠিকাদারের বিল / প্রকল্প কমিটির সভাপতির বিল প্রদান।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় হতে প্রসত্মাব প্রাপ্তির পর ২ (দুই) দিনের মধ্যে।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় হতে প্রসত্মাব প্রাপ্তির পর বিল অনুমোদন, প্রয়োজনে সরেজমিনে পরিদর্শন।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস।

০৪

হাট-বাজার বাৎসরিক ইজারা প্রদান।

প্রতি বছরের ১লা বৈশাখের আনুমানিক ২ (দুই) মাস পূর্বে  কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

হাট-বাজার নীতিমালা অনুযায়ী দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়।

০৫

জলমহাল ইজারা প্রদান।

প্রতি বছরের ১লা বৈশাখের আনুমানিক ২ (দুই) মাস পূর্বে  কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

জলমহাল ইজারার নীতিমালা অনুযায়ী দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়।

০৬

সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী বে-সরকারী কলেজ, হাই স্কুল ও মাদ্রাসার বেতন বিল প্রদান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিবিধ প্রশাসনিক কার্যাবলী।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে বেতন বিল প্রাপ্তির ২ (দুই) দিনের মধ্যে এবং যেকোন প্রশাসনিক কাজের প্রসত্মাব প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে।

প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক বিল দাখিলের  পর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়।

০৭

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সদস্যাদের সরকারী অংশের সম্মানী ভাতা প্রদান এবং সচিব ও গ্রাম পুলিশদের বেতন ভাতা প্রদান।

সরকারী বরাদ্ধ প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে।

সরকারী বরাদ্ধ প্রাপ্তির পর সম্মানী ভাতা বা  বেতন ভাতা ব্যাংক থেকে কালেকশান করে প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়।

০৮

ধর্ম মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা পরিষদ, সংস্থা / বিভাগ কর্তৃক বিবিধ অনুদান বিতরণ।

বরাদ্ধ প্রাপ্তির পর বিষয়টি সুফলভোগীকে অবহিত করা হয়। সুফলভোগী কর্তৃক  চাহিদা মোতাবেক কাগজ-পত্রাদি দাখিলের পর ৩ (তিন) দিনের মধ্যে অর্থ প্রদান করা হয়।

সুফলভোগী কর্তৃক  চাহিদা মোতাবেক কাগজ-পত্রাদি দাখিলের পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক অর্থ প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় / বিভাগ / সংস্থা।

০৯

জেনারেল সার্টিফিকেট মামলা।

বিধি মোতাবেক।

P.D.R. Act, 1913 অনুযায়ী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়।

১০

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও রিপোর্ট রিটার্ণ প্রেরণ।

প্রতি সপ্তাহে একদিন।

সরকারের আদেশ ও বিভিন্ন আইন মোতাবেক।

উপজেলা নির্বাহী  ম্যাজিস্ট্রেট ।

১১

হজ্বব্রত পালনের ফরম বিতরণ ও পরামর্শ প্রদান।

আবেদনের সাথে সাথে।

আবেদন মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিস হতে ফরম, তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিস ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কার্যালয়।

১২

স্থানীয় সরকার ( ইউনিয়ন পরিষদ) সংক্রামত্ম পরামর্শ, তথ্য ও করণীয় সম্পর্কে সেবা প্রদান।

চাহিদা মোতাবেক স্বল্প সময়ে প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসে এসে পরামর্শ চাওয়া হলে পরামর্শ প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিস ও ইউপি চেয়ারম্যান।

১৩

বিভিন্ন কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন।

কমিটির সদস্য-সচিবের সাথে আলাপের মাধ্যমে সম্ভাব্য স্বল্প সময়ে।

সদস্য-সচিবের চাহিদা মাফিক।

বিভাগীয় কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

১৪

বি.সি.আই.সি / ভর্তুকি সারের প্রতিবেদন প্রেরণ।

আগমনী বার্তা প্রাপ্তির দিন।

সরেজমিনে পরিদর্শন পূর্বক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

১৫

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল কমিটি।

অভিযোগ প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কর্তৃক সংশি­ষ্ট পক্ষদ্বয়কে নোটিশ প্রদান করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ সেল কমিটি কর্তৃক পক্ষদ্বয়ের শুনানী গ্রহণ শেষে নিস্পত্তি করা হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

 

একনজরে ধানের আগাছা দমন প্রযুক্তি
 
ধানের আগাছা দমন
 সব ধরনের ধানের জমিতেই আগাছা জন্মে। আগাছা সময়মত পরিষ্কার না করলে তা ধানের সাথে খাদ্য ও জায়গা নিয়েপ্রতিযোগিতা করে। আগাছা ধান ফসলের সাথে আলো, পানি ও পুষ্টি নিয়ে প্রতিযোগিতা করে।  ফলে ধানের গাছ ভালোভাবে বাড়তে পারেনা এবং তাতে ফলন কমে যায়। এজন্য ধানক্ষেতের আগাছা চেনা ও সেগুলো দমন করা দরকার।
 ধান ক্ষেতের আগাছা পরিচিতি
(Identification of rice weeds)
 হলদে মুথা
বৈজ্ঞানিক নাম Cyperus difformis L.
 হলদে মুথা একটি ২০-৭০ সেন্টিমিটার লম্বা, মসৃণ, ঘন গুচ্ছযুক্ত এবং একবর্ষজীবি বিরুৎ (সেজ) জাতীয় আগাছা। কান্ড মসৃণ, উপরের দিকে ত্রিকোণাকার এবং ১-৪ মিলিমিটার পুরু। পাতার খোল নলের মত এবং গোড়ার দিকে যুক্ত থাকে। নিচের দিকের খোলগুলো খড় থেকে বাদামী রঙের হয়। গোড়ার দিকে ৩-৪টি ঢলঢলে এবং সারি সারি পাতা ১০-৪০ সেমি লমবা ও ২-৩ মিলিমিটার চওড়া হয়ে থাকে।
 পুষপবিন্যাস ঘন, গোলাকার সরল বা যৌগিক আমেবল জাতীয় (ছাতাকৃতি) যা ৫-১৫ মিলিমিটার ব্যাস বিশিষ্ট। তার সংগে ২-৪টি, সচরাচর ৩টি ১৫-৩৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৬ মিলিমিটার চওড়া পাতার মত বৃতি বিপরীত দিকে অবস্থান করে। পুষপবিন্যাসের প্রাথমিক পুষপপ্রান-গুলো ১ সেন্টিমিটার লমবা। কতকগুলো বোঁটা ছাড়া এবং কতকগুলোর লমবা বোঁটা আছে। পুষপপ্রান্তগুলো গুচ্ছভূত ও ৬ মিমি ব্যাসযুক্ত ডিমবাকৃতি বা গোলাকার। গুচ্ছগুলো ১০-৩০টি ফুল সমবলিত ২-৫ মিলিমিটার লমবা ও ১.০-১.৫ মিলিমিটার চওড়া সবুজ রঙের রৈখিক বা চক্র কীলক মঞ্জরী দ্বারা গঠিত। ফল ০.৬ মিমি লম্বা ও কিছুটা চ্যাপ্টা বৃত্তাকার থেকে ডিমবাকৃতি বাদামী রঙের ‘একিন’। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
 বড়চুঁচা
বৈজ্ঞানিক নাম- Cyperus iria  L.
বড়চুঁচা মসৃণ, গুচ্ছযুক্ত ত্রিকোণাকৃতির কান্ড বিশিষ্ট, ২০-৬০ সেমি লমবা একবর্ষজীবি বিরুৎ (সেজ) জাতীয় আগাছা। শিকড়গুলো হলদে লাল এবং আঁশযুক্ত। পাতার খোল পাতলা এবং কান্ডের গোড়ার দিকে আবৃত রাখে। পাতার ফলক সোজা তলোয়ারের মত, পুষপ কান্ড থেকে খাটো এবং প্রায় ৫ মিলিমিটার চওড়া।
 পুষপবিন্যাসটি যৌগিক আমেবল (ছাতাকৃতি)। প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের পুষপপ্রান-গুলো যথাক্রমে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার ও ২ সেন্টিমিটার লমবা। বিপরীতভাবে অবস্থানরত ৩-৫টি, কখনো কখনো ৭টি মঞ্জুরীপত্র সংযুক্ত থাকে (ছবি ৯৭)। সবচেয়ে নিচের মঞ্জরীপত্রটি পুষপবিন্যাস অপেক্ষা লমবা। ২-৩ সেন্টিমিটার লমবা শস্য মঞ্জরীর (স্পাইক) শাখার অগ্রভাগ লমবা ও ছড়ানো। হলদে বাদামী থেকে সবুজ রঙের অসংখ্য কীলক মঞ্জরী (স্পাইকলেট) খাড়াভাবে ছড়ানো। দৈর্ঘ্য ৩-১০ মিলিমিটার এবং ১.৫-২.০ মিলিমিটার ।
হলদে বাদামী রঙের ফল একিন জাতীয়, ডিমবাকৃতি ত্রিকোণাকার এবং ১.০-১.৫ মিলিমিটার লম্বা । বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
ভাদাইল বা মুথা
বৈজ্ঞানিক নাম  Cyperus rotundus L
এটি একটি খাড়া, মূল ভূগর্ভস' কান্ড (রাইজোম), কান্ডে (টিউবার) রূপান্তরিত এবং ২০ সেমি উঁচু বহুবর্ষজীবি বিরুৎ (সেজ)। গোড়ার স্ফীত কন্দসহ কান্ডগুলো খাড়া, শাখাবিহীন, মসৃণ ও ত্রিকোণাকৃতি। মূল শায়িত, কান্ড ছড়ানো, লমবাটে, সাদা এবং শাসালো। কচি অবস্থায় সেগুলো পাতলা খোসা দ্বারা আবৃত থাকে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে আঁশযুক্ত হয়। কন্দের আকৃতি অনিয়মিত এবং দৈর্ঘ্য ১.০-২.৫ সেমি। কচি অবস্থায় কন্দ সাদা ও রসালো থাকে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে আঁশযুক্ত হয়ে বাদামী বা প্রায় কালো বর্ণের হয়। পাতা ঘন সবুজ, সোজা ও কিছুটা মোড়ানো, ৫-১৫ সেমি লম্বা ও ৫ মিমি চওড়া ।
পুষপবিন্যাস সরল বা যৌগিক আমেবল (ছাতাকৃতি)। যার বিপরীত দিকে ২-৪টি মঞ্জরীপত্র রয়েছে (ছবি ৯৮)। লালচে বাদামী রঙের ফলের কীলক মঞ্জরী আমেবলের শেষ প্রান্ত সাজানো থাকে। সংখ্যায় ৩-৮টি প্রাথমিক পুষ্প প্রান্তর দৈর্ঘ্য ২-৫ সেমি যার অগ্রভাগে ছোট ছড়ায় ৩-১০টি কীলক মঞ্জরী রয়েছে। এগুলো কখনো কখনো ছোট শাখায়, আবার কখনো
কখনো ছড়ার গোড়ায় ১-২টি খাটো দ্বিতীয় পর্যায়ের পুষপ প্রানে- অবস'ান করে। কীলক মঞ্জরী ১.০-২.৫ সেমি লম্বা ও ১.৫-২.০ মিমি চওড়া, অগ্রভাগ চ্যাপ্টা ও সুঁচালো। পরিণত অবস'ায় সেগুলোতে ১০-৪০টি লালচে বাদামী রঙের ফল একের পর এক ঘনভাবে সাজোনো থাকে । বাইরের থোকাগুলো ৩-৪ মিমি লম্বা ও এদের অগ্রভাগ ভোঁতা হয় । ফল ডিমবাকৃতি ১.৫ মিমি লম্বা । পাকা ফলের রঙ কালো। ভূমিজ কান্ড, কন্দ ও বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয় ।
আংগুলি ঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম Digitaria ciliaris (Retz.) Koel.
আংগুলি ঘাস ২০-৬০ সেমি দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ভূমিতে শায়িত একবর্ষী বা অল্প জীবনকালের বহুবর্ষী আগাছা। এটি মুক্তভাবে শাখা-প্রশাখা দেয় এবং নিচের গিঁট থেকে শেকড় ছাড়ে। পাতার খোল সাধারণতঃ লোমযুক্ত। পাতার ফলকগুলো চওড়া এবং সরল, ৫-১৫ সেমি লম্বা এবং ৩-৪ মিমি চওড়া। পাতাগুলো সাধারণতঃ লোমবিহীন এবং অমসৃণ কিনার ঢেউ খেলানো। লিগিউল পাতলা ঝিল্লির মত, ১-৩ মিমি লম্বা এবং প্রান্ত ভাগ ছেটে ফেলার মত দেখায় ।
পুষপবিন্যাসটি ৩-৮টা রেসিম বিশিষ্ট একটি ছড়া ও ছড়াটি ৫-১৫ সেমি লম্বা । ছড়াগুলো প্রায়ই মাঝের বোঁটার উপরের চারিদিকে চক্রাকারে অবস্তান করে, কিন' কখনো কখনো ২ সেমি দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট ক্ষুদ্র সাধারণ দন্ড বরাবর সাজানো থাকে। রেসিম লমবা পাখাযুক্ত লোমবিহীন। প্রায় ৩ মিমি লমবা কীলক মঞ্জরীগুলো দন্ডের একধার বরাবর দুই সারিতে ঠাসা অবস্থায় থাকে। নিচের ত্রিকোণাকৃতির তুষ (গ্লুম) প্রায় ৩ মিমি লম্বা, তলোয়ারাকৃতির উপরের বর্মপত্রিকা কীলক মঞ্জরীর অর্ধেক থেকে পাঁচ ভাগের চার ভাগ অংশের সমান। নিচের বড় তুষ (লেমা) মোটামুটি তলোয়ারাকৃতির ৫-৭টি শিরা এবং বিভিন্ন পরিমাণ লোমযুক্ত। ফল বিভিন্ন প্রকার ডিমবাকৃতির ক্যারিওপ্‌সিস। বীজ দ্বারা বংশ বিসতার হয়ে থাকে ।  
আংগুলি ঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম Digitaria setigera Roth ex R&S
এটি মোটামুটি আংগুলি ঘাস-এর মত, কিন' সাধারণতঃ আরো বেশী লমবা (১ মিটার বা বেশী) হয়। পাতার খোল সাধারণতঃ লোমবিহীন একটি সাধারণ দন্ডের ৬ সেমি পর্যন- ৫-৬টি রেসিম (অনিয়ত) চক্রাকারে সাজানো থাকে। নীচের বর্মপত্রিকা নেই বা থাকলেও অতি ক্ষুদ্র শিরাবিহীন পাতলা ঝিল্লীর মত ।  
ক্ষুদে শ্যামা
বৈজ্ঞানিক নাম: Echinochloa colona (L.) Link
ক্ষুদে শ্যামা মসৃণ, ৭০-৭৫ সেমি লম্বা গুচ্ছযুক্ত এক বর্ষজীবি ঘাস। ইহা সাধারণতঃ মাটির উপর ছড়িয়ে থকে এবং নিচের গিঁটে শেকড় গজায়। কান্ড চ্যাপ্ট, গোড়ার দিকে সচরাচর লাল বেগুনী রঙের এবং গিট সাধারণতঃ মোটা থাকে। পাতার খোল মসৃণ এবং মাঝে মধ্যে চ্যাপ্টা হয়। পাতার খোলের কিনারগুলোর উপরিভাগ মুক্ত থাকে এবং গোড়ার অংশ কখনো লালচে হয়। পাতার ফলক মসৃণ, চওড়া, সরল তলোয়ারাকৃতি এবং নরম । ২৫ সেমি পর্যন্ত লম্বা এবং ৩-৭ মিমি চওড়া হয় । পাতায় কখনো কখনো বেগুনী রঙের তির্যক ডোরা রেখা থাকে।
সবুজ থেকে বেগুনী রঙের পুষপবিন্যাস ৬-১২ সেমি লম্বা এবং ৪-৮টা খাটো, ১-৩ সেমি লম্বা ও ৩-৪ মিমি চওড়া ঘন শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট উর্ধমুখী ছড়া। শাখাগুলো বড় থেকে ক্রমশঃ ছোট হয় বা প্রায় আধাআধি দূরত্বে প্রধানতঃ এককভাবে থাকে, কিন' মাঝে-মধ্যে দুটি একসাথেও অবস্থান করে। ছোট্ট ছড়াগুলো প্রধান শাখায় একটির পর আরেকটি সাজানো থাকে। কীলক মঞ্জরীগুলো গোলাকার থেকে ডিমবাকৃতি সুঁচালো ২-৩ মিমি লম্বা এবং শাখার এক প্রান্ত বরাবর চার সারিতে ঘনভাবে সাজানো থাকে। এরা প্রায় বোঁটাহীন, কখনো কখনো প্রায় ১ মিমি লম্বা শুংযুক্ত। ফল গোলাকৃতির ক্যারিওপসিস্‌। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার করে থাকে ।
 শ্যামা ঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম Echinochloa crus-galli  (L.) Peauv
শ্যামা ঘাস, ২ মি পর্যন্ত লম্বা এক বর্ষজীবি ঘাস যার শিকড় ঘন এবং কান্ড শক্ত ও ছিদ্র বহুল। কান্ডের গোড়ার দিকে কখনো কখনো চাপা থাকে। পাতা সরল, ৪০ সেমি লম্বা এবং ৫-১৫ মিমি চওড়া ।
পাটল থেকে বেগুনী, মাঝে মধ্যে সবুজ বর্ণের পুষপবিন্যাস ১০-২৫ সেমি লম্বা, নরম এবং ঘন কীলক মঞ্জরী বিশিষ্ট হেলে পড়া ছড়া। সর্বনিম্ন শাখা-প্রশাখাগুলো সবচেয়ে বড়, মাঝে মধ্যে ১০ সেমি পর্যন্ত লমবা হয়। পাকার সময় ছড়াগুলো পুনরায় শাখা ছাড়ে এবং ছড়িয়ে থাকে। সাধারণতঃ প্রধান শাখার গিঁটগুলো লোমযুক্ত হয়। কীলক মঞ্জরীগুলো ডিমবাকৃতি এবং সুঁচালো, ৩.০-৩.৫ মিমি লম্বা এবং প্রায়শই কিছুটা লোমশ। পাকার সময় তারা সহজেই ঝরে পড়ে। নীচের বর্ম পত্রিকা কীলক মঞ্জরীর তিন ভাগের এক থেকে পাঁচ ভাগের তিন ভাগ অংশের সমান। শুংগুলো প্রধানতঃ লাল বা বেগুনী রঙের এবং ২.৫ সেমি লম্বা । প্রথম ক্ষুদ্র পুষিপকার বড় তুষ বা ‘লেমা’ মতল বা কিছুটা উত্তল ও বিবর্ণ। ফল ২ মিমি লম্বা একটি ক্যারিওপ্‌সিস। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
শ্যামাঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম - Echinochloa glabrescence Munro Ex Hook F
এটি ক্রাসগেলির মত, তবে কেবল ০.৫-১ মি উঁচু হয়। পাতার ফলক সুঁচালো। পাতার খোলগুলো প্রায় বন্ধ এবং মাঝে মধ্যে ছড়ানো থাকে। কীলক মঞ্জরীগুলো ডিমবাকৃতি এবং প্রায় ৩ মিমি লমবা হয়। প্রথম ক্ষুদ্র পুষিপকার বড় তুষ বা লেমা' বাইরের দিকে বাঁকা এবং উজ্জল। শুং থাকলে প্রায় ১ সেমি লম্বা হয়।
চাপড়া ঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম Eleusine indica  (L.) Gaertn
চাপড়া একটি মসৃণ বা কিছুটা লোমশ গুচ্ছযুক্ত ঘাস। ভূমিতে শায়িত থেকে খাড়া, ৩০-৯০ সেমি লম্বা এক বর্ষজীবি ঘাস। সাদা বা ধূসর বর্ণের কান্ডটি পার্শ্বে চওড়া, মসৃণ বা ধার বরাবর কিছু লমবা লোমযুক্ত। পাতার খোল ৬-৯ সেমি লম্বা, পার্শ্বে চওড়া এবং ফলক সন্ধিতে কয়েকটি লম্বা লোম আছে। পাতার ফলক সমতল বা ভাজ করা রৈখিক তলোয়ারকৃতির ১০-৩০ সেমি লম্বা এবং ৩-৬ মিমি চওড়া। কিনার সমান-রাল প্রায় এবং অগ্রভাগ অপেক্ষাকৃত ভোতা। এর উপরিভাগে কিছু ছড়ানো লোম আছে। লিগিউল পাতলা ঝিল্লির মত, অগ্রভাগ খাঁজকাটা। পাতার খোল ও ফলকের সন্ধিস'লের ধার বরাবর লম্বা লোম আছে।
পুষপবিন্যাস গোড়ার দিকে বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত থাকে। মাঝে মধ্যে নিচের গিঁটগুলো থেকে শিকড় গজায়। আগার দিকের ৩-৬টি ছড়া ৪-৮ সেমি লম্বা এবং ৩-৬ মিমি চওড়া হয়। মাঝে মধ্যে এগুলোর ঠিক নীচে ১-২টি অতিরিক্ত ছড়াও থাকে। অসংখ্য কীলক মঞ্জরী বোঁটাশুন্য, শুংবিহীন, ৪-৫ মিমি লম্বা, পার্শ্বে চাপা এবং চওড়া যা প্রধান শাখার নিচ বরাবর দু’সারিতে ঘনভাবে সাজানো থাকে ।
বড় জাভানি বা জৈনা
বৈজ্ঞানিক নাম Fimbristylis miliaceae (L.) vahl
জৈনা একটি খাড়া, গুচ্ছভূক্ত, ২০-৭০ সেমি লম্বা একবর্ষজীবি বিরুৎ (সেজ) জাতীয় আগাছা। জৈনার কান্ড নরম, গোড়ার দিকে চ্যাপ্টা এবং উপরে ৪-৫টা শক্ত কোনা আছে। পুষপকান্ড ০.৫-১.৫ মিমি মোটা এবং পুষপবিন্যাসের চেয়ে খাটো ২-৪টি অসমান মঞ্জরীপত্র রয়েছে। গোড়ার পাতাগুলো ৩৫ মিমি লম্বা, ১.০-২.৫ মিমি চওড়া এবং পাতার খোল মোটামুটিভাবে একে অপরের উপর অবস্তান করে । কান্ডের পাতাগুলোর ফলক খুবই ছোট।
পুষপবিন্যাস শিথিলভাবে ছড়ানো পূর্ণযৌগিক আমেবল (ছাতাকৃতি), ৬-১০ সেমি লম্বা এবং ২.৫-৪.০ সেমি চওড়া। ইহার অসংখ্য একক কীলক মঞ্জুরী গোলাকার, বাদামী বা খড় বর্ণের এবং ২.০-২.৫ মিমি চওড়া ব্যাস বিশিষ্ট। ফ্যাকাশে সাদা থেকে বাদামী বর্ণের ফল ত্রিকোণী একিন যা ০.৫-১.০ মিমি লমবা এবং ০.৭৫ মিমি চওড়া হয় এবং প্রত্যেক ধারে তিনটি শিরা রয়েছে। বীজদ্বারা বংশ বিস্থার করে।
কলমিলতা
বৈজ্ঞানিক নাম Impoea aquatica Forssk
কলমিলতা একটি মসৃণ, ব্যাপকভাবে ছড়ানো বহুবর্ষজীবি লতা এবং কান্ডগুলো লতিয়ে চলে অথবা কখনো কখনো কাদার উপর কুন্ডলী পাকিয়ে থাকে, কিন্তুযখন পানিতে ভাসে তখন ফাপা নলের মত। কলমিলতার গিঁটসমূহ থেকে শেকড় গজায়। পাতাগুলো সরল ৭-১৫ সেমি লম্বা ও প্রায় ৩.৫ সেমি চওড়া এবং সূঁচালো আগাসহ আয়তাকার থেকে গোলাকার। পাতার কিনারগুলো সমান বা কিছুটা খাছকাটা। বোঁটাগুলো ২.৫-১৫.০ সেমি লম্বা। সাদা থেকে ঘিয়া বা বেগুনী বর্ণে মাত্র একটি ফুল পাতার গোড়ায় জন্মে এবং ফুলটি ৫-১৫ সেমি লমবা বোঁটাযুক্ত হয়।
ফুল গোলাকার, খোসা দিয়ে ঢাকা এবং প্রায় ১ সেমি লম্বা হয়। এর দু’টো কক্ষে চারটা বীজ থাকে। হালকা বাদামী বর্ণের বীজ প্রায় ৪ মিমি লমবা এবং ৫-৭ মিমি চওড়া, মসৃণ অথবা খাটো, ঘন ও ধূসর বর্ণের লোমযুক্ত হয়। বীজ বা গাছ থেকে বংশ বিস্থার হয়ে থাকে।
মোরারো ঘাস/ মনা ঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম- Ischaemum rugosum  Salisb.
মোরারো ঘাস একটি আগ্রাসী খাড়া বা ছড়ানো গুচ্ছভূক্ত এক বর্ষজীবি ঘাস। এটি ০.৬-১.২ মি লম্বা এবং এর দু’টো লমবা শুংযুক্ত রেসিম ও শিরাযুক্ত কীলক মঞ্জরী রয়েছে। লোমযুক্ত গিঁটসহ কান্ডগুলো বেগুনী বর্ণের। ফুল হওয়া কান্ডগুলোর গিঁটে লমবা লোম আছে। পাতার ফলকগুলো সরল তলোয়ারাকৃতি। ১০-৩০ সেমি লম্বা ও ৫-১৩ মিমি চওড়া এবং উভয় পার্শ্বে ছড়ানো লোম আছে। লোমশ কিনারসহ সবুজ বা বেগুনী রঙের পাতার খোল ঢিলা থাকে (ছবি ১১২)।
পাকার সময় পুষপবিন্যাস ৫-১০ সেমি লম্বা দু’টো রেসিমে বিভক্ত হয়। হলদে সবুজ কীলক মঞ্জরীগুলো ৬ মিমি লমবা জোড় হিসেবে থাকে যার একটি বোঁটাবিহীন ও অন্যটি ৬ মিমি লমবা বোঁটাযুক্ত হয়। শুঙ্গগুলো ১.৫-২.৫ সেমি লম্বা, সরু এবং গোড়ার দিকে কোঁকড়ানো। নিচের বর্মপত্রিকাগুলোর ৩-৬টা সুষপষ্ট শিরা রয়েছে। ফল লালচে বাদামী বর্ণের কেরিওপ্‌সিস, আয়ত তলোযারাকৃতি, আগা সুঁচালো এবং ১.৫-২.৫ মিমি লমবা। বীজ দ্বারা বংশ বিস-ার করে।
ফুলকা ঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম- Leptochloa chinensis (L.) Nees
ফুলকা ঘাস একটি দৃঢ়ভাবে গুচ্ছভূত জলজ বা আধাজলজ একবর্ষ বা স্বল্পজীবী ৩০ সেমি-১.০ মি উচুঁ গাছ। এদের সাধারণতঃ পূর্ব, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা যায়। দূর্বল থেকে শক্ত কান্ডগুলো শাখাযুক্ত গোড়া থেকে বেরিয়ে আসে। পাতা ও ছড়াগুলো কখনো কখনো লালচে থেকে বেগুনী বর্ণের হয় । পাতার ফলক চওড়া এবং আগার দিকে সূঁচালো সরল, ১০-৩০ সেমি লম্বা এবং ০.৩-১.০ সেমি চওড়া। লিগিউল ১-২ মিমি লম্বা এবং অগভীরভাবে লোমের মত অংশে বিভক্ত। পুষপবিন্যাসটি একটি ছড়া যার প্রধান শাখা ১০-৪০ সেমি লম্বা হয়।
এর ৫-১৫ সেমি লমবা অসংখ্য শাখা-প্রশাখাগুলো সোজা এবং ছড়ানো। কীলক মঞ্জরীগুলো ২.৫-৩.৫ মিমি লম্বা যার ৪-৬টি, সচরাচর ৫টি ফুল এবং ০.৫-০.৭ মি মি লম্বা ছোট বোঁটা আছে । মঞ্জুরী ধূসর, সবুজ বা লাল বর্ণের হয়ে থাকে । ফুল প্রায় ০.৮ মি মি লম্বা গোলাকৃতির কেরিওপ্‌সিস । বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার করে ।
পানিকচু
বৈজ্ঞানিক নাম Monochoria Vaginalis (Burm.f.) presl
পানিকচু বা নখা একটি এক বর্ষজীবি, আধাজলজ ৪০-৫০ সেমি লম্বা এবং চওড়া পাতা বিশিষ্ট আগাছা। এই এক বীজপত্রী আগাছার খাটো, মাংসল কান্ড এবং খুবই ছোট্ট শেকড় আছে। পাতাগুলো উজ্জ্বল গাঢ় সবুজ, আয়তাকার থেকে ডিমবাকৃতি এবং ইহার আগা খুবই তীক্ষ্ন। গোলাকৃতি গোড়ার দিক ১০-১৫ সেমি লম্বা এবং ৩.৫ সেমি চওড়া। বোঁটাগুলো ১০-১২ সেমি লমবা, নরম, ফাঁপা এবং লমবালমিব শিরা-উপশিরাযুক্ত। পুষপবিন্যাস একটি ৩-৬ সেমি লমবা ছড়া। এতে কয়েকটি নীল বর্ণের প্রায় ১ সেমি লম্বা ফুল থাকে যা পাতার মত একটা আবরণী থেকে বের হয়। ফুলের বোঁটাগুলো লমবায় ১ সেমি এর চেয়েও কম।
খোসাযুক্ত ঢাকা ফল প্রায় ১ সেমি লম্বা এবং তিন ভাগে বিভক্ত। বীজগুলো আয়তাকার এবং প্রায় ১ মিমি লম্বা। বীজ দ্বারা বংশ বিস্তার করে থাকে।
ঝরাধান বা লালধান
বৈজ্ঞানিক নাম- Oryza rufipogon Griff
ঝরাধান বা লালধানকে জংলী ধানও বলা হয়। এ ধান চাষাবাদযোগ্য ধানের মতই এবং এর সংগে প্রাকৃতিকভাবে প্রজনন ঘটে থাকে। কিন্তু চাষযোগ্য ধানের সংগে বৈসাদৃশ্য এই যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধানগুলো পুরোপুরি পাকার আগেই ঝরে পড়ে এবং ছড়া খাড়া থাকে। অবশ্য যেগুলোতে ধান ঝরে পড়ে না সেগুলোর ছড়া নুয়ে পড়ে। কীলক মঞ্জরীগুলো শুংযুক্ত বা শুংবিহীন হতে পারে এবং শুংয়ের দৈর্ঘ্যের ব্যাপক তারতম্য ঘটে। পাকা ধানের খোসাগুলো খড়ের রং বা কালচে হয়। চালের বহিরাবরণ রঙিন। ইহা পাকার সময় ও বীজের বয়স অনুযায়ী তা ধূসর থেকে লাল বর্ণে রূপান্তরিত হয়। বীজগুলো মাটিতে বহুদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকে, কিন' যদি চাষাবাদযোগ্য ধানের মত কাটা ও ব্যবহার করা যায় তাহলে সুপ্ত অবস্থা ভেংগে দেয়া সমভব ।
ঝিল মরিচ
বৈজ্ঞানিক নাম Sphenoclea zeylanica Gaertn
ঝিল মরিচ মসৃণ, শক্ত, মাংসল, ফাঁপা, বহু শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট ও  ০.৩-১.৫ মি উঁচু কান্ডসহ একটি খাড়া ও এক বর্ষজীবি চওড়া পাতা আগাছা। পাক মেরে সাজানো পাতাগুলো সাধারণ গোলাকার থেকে তলোয়ারাকৃতির, ১০ সেমি লম্বা এবং ৩ সেমি চওড়া। পাতাগুলোর আগা চিকন থেকে সূচাকৃতির। পাতার ছোট বোঁটা এবং নিখাঁজ কিনার রয়েছে।
সবুজ রঙের, পুষপবিন্যাস ৮ সেমি লম্বা  বোঁটার উপর অবসি'ত। ইহা ৭.৫ সেমি লম্বা  এবং ১২ মিমি চওড়া একটি গিজানো ছড়া। গাঢ় সাদা থেকে সবুজ বর্ণের ফূলগুলো প্রায় ২.৫ মিমি লম্বা এবং ২.৫ মিমি চওড়া হয়ে থাকে।
ফল একটি গোলাকার বীজকোষ, ৪-৫ মিমি চওড়া ও খাড়াভাবে বিভক্ত। এর হলদে বাদামী বর্ণের অসংখ্য বীজগুলো ০.৫ মিমি লমবা। বীজদ্বারা বংশ বিস্তার করে।
কেশুটি
বৈজ্ঞানিক নাম- Ecliptaalba (L.) Hassk
কেশুটি বর্ষজীবী অথবা বহুবর্ষজীবী একটি আগাছা। এটি অ্যাস্টারেসী পরিবারের   অনর্-ভূক্ত। এটি মাটিতে শোয়া অবস্থায় বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এ আগাছার পাতা ময়লা সবুজ রঙের ও খসখসে হয়। এর পুষপমঞ্জরী সরু ও পেয়ালা আকৃতির, দেখতে মেয়েদের নাকফুলের মতো। বৃতির মধ্যে সাদা রঙে ফুল ঘনভাবে সাজানো থাকে। পুষপমঞ্জরির এ আলাদা বৈশিষ্ট্য দেখে একে সহজেই সনাক্ত করা যায়। মার্চ-এপ্রিলে এর চারা জন্মায় এবং জুন-জুলাইতে পরিপক্ক হয়। এরা সাধারণত বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। আউশ ধানের জমিতে এ আগাছার প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকে। এ আগাছার অভিযোজনের ক্ষমতার গুণে এরা ভিজা ও শুকনা উভয় মাটিতে জন্মাতে পারে এবং উঁচু ও নিচু জমিতে সমানভাবে সহজে বৃদ্ধি পায়। অধিক পরিমাণে কেশুটির প্রাদুর্ভাবে ধানের ফলন অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে ।
কচুরি পানা
বৈজ্ঞানিক নাম Eichhornia crassipes (Mart.) Solms
কচুরি পানা চড়হঃবফবৎরধপবধবপরিবারের অর্ন্তভূক্ত একটি বহুবর্ষজীবী বিরুৎ শ্রেণীর জলজ আগাছা। এরা পানির উপর ভাসমান অথবা কাদায় শিকড় ঢুকিয়ে পুষ্টি গ্রহণের মাধ্যমে আধাস'লজ আগাছা হিসেবে বেঁচে থাকে। এর কান্ড খাটো এবং এতে সেটালন থাকে। কালো রঙের লোমযুক্ত সরু শিকড় কান্ডের নিচে গোছার মতো গঠন সৃষ্টি করে। পাতার ফলক কিডনির মতো বা গোলাকার। পাতার বোঁটা স্ফীত এবং এর উপর ভিত্তি করে কচুরিপানা পানিতে ভেসে থাকতে পারে। এরা দ্রুত বংশ বিস্তার করতে পারে। একটি গাছ থেকে এক মৌসুমে অসংখ্য গাছ জন্মাতে পারে। এদের ফুল সাদা বা নীলাভ বেগুনি। পাপড়ির কেন্দ্র হলুদ রঙের আভাযুক্ত। সাধারণত সেটালনের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। কখনো কখনো বীজের মাধ্যমেও বংশ বিস্তার করে। এটি জলী আমন ক্ষেত ছাড়াও নিচু জমিতে আমন ধান ও বোরো ধানের ক্ষতি করতে পারে। নতুন পানির সাথে বোনা আমন ধানের জমিতে একবার কচুরি পানা ঢুকে গেলে সেখানে ফসল ফলানো কষ্টকর। কচুরি পানা শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ পর্যন্ত গভীর পানির ধানের ক্ষতি করতে পারে ।
টোপাপানা/ক্ষুদেপানা
বৈজ্ঞানিক নাম- Pistia stratiotes L.
টোপাপানা অৎধপবধব পরিবারের অনর্-ভূক্ত একটি বহুবর্ষজীবী মুক্ত ও ভাসমান জলজ আগাছা। এর কান্ড ছোট আকারের এবং পাতা চক্রাকারে বাঁধাকপির পাতার মতো সাজানো অবস্থায় উৎপন্ন হয়। পাতাগুলো মখমলের মতো লোমযুক্ত এবং পাতার নিচের দিকে স্পষ্ট শিরাযুক্ত। সেটালন হলদে সবুজ রঙের এবং কালো লোমযুক্ত। প্রধানত সেটালনের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। এটি জলী আমন ধান ছাড়াও রোপা আমন ধানের ক্ষেতে বেশি পরিমাণে জন্মে ধানের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।
চেচড়া
বৈজ্ঞানিক নাম -Scripus maritimus L
চেচড়া ঈুঢ়বৎধপবধব পরিবারের অন্তর্ভূক্ত একটি বর্ষজীবী সেজ জাতীয় আগাছা। এটি প্রায় ১.৫ মি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কান্ড খাড়া, মসৃণ ও ত্রিকোণাকার। এরা ভিজা ও পানিযুক্ত মাটিতে বেশি পরিমাণ জন্মায়। এ আগাছা বোরো ও আমন ধানের জমিতে বেশি পরিমাণে দেখা যায়। কখনো কখনো আউশ ধানে এদের পাওয়া যায়। তবে এ আগাছা বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি হয় এবং ধান ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে। এ আগাছা জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে। এরা সাধারণত বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। কন্দ এবং সেটালনের মাধ্যমেও এদের বংশবৃদ্ধি ঘটতে পারে। এ আগাছা দমন করা বেশ কঠিন। জলাবদ্ধ/ভিজা কাদাময় জমিতে এ আগাছা বেশি জন্মাতে দেখা যায়।
কাকপায়া ঘাস
বৈজ্ঞানিক নাম- Dactyloctenium aegyptium (L.) Willd..
কাকপায়া একটি বর্ষজীবী ঘাসজাতীয় আগাছা ও চড়ধপবধব পরিবারের অন-র্ভূক্ত। এটি প্রায় ২০-৪০ সেমি লম্বা হয়। এ আগাছার কান্ডের পূর্ব থেকে শিকড় জন্মায়। কান্ডে অনেক শাখা-প্রশাখা উৎপন্নের ফলে এক ধরনের গুচ্ছের সৃষ্টি হয়। এর ২-৭টি পুষপছড়া নিয়ে গঠিত পুষপবিন্যাস হাতের আংগুলের মতো বোঁটার আগায় সাজানো থাকে যা দেখতে কাকের পায়ের মতো। এটি বোনা আউশ ধানের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এর কারণে আউশ ধানের শতকরা ১০-৭৫ ভাগ পর্যন্ত ফলন কমে যেতে  পারে।
গৈচা
বৈজ্ঞানিক নাম
গৈচা একটি বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় আগাছা এবং চড়ধপবধব পরিবারের অন-র্ভূক্ত। এর কান্ড মাটিতে শোয়া অবস্থায় বৃদ্ধি পায় । সবুজ অথবা হালকা খয়েরি রঙের কান্ড বেশ শক্ত হয়।  কান্ডের আগায় ৩-৬ সেমি লমবা দুু’টি পুষপমঞ্জরী হাতের আঙুলের মতো ছড়ানো থাকে। এ দু’টি স্পাইক দেখে সহজেই এদেরকে সনাক্ত করা যায়। এ ঘাস দেখতে অনেকটা দুর্বা ঘাসের মতো তবে আকারে কিছুটা বড়। এটি স্যাঁতস্যাঁতে বা জলাবদ্ধ জমিতে জন্মাতে পারে। সাধারণত বীজ ও কান্ডের সাহায্যে বংশ বিস্তার করে। এ আগাছা সরাসরি বোনা, ভিজা ও রোপা ধান ক্ষেতে জন্মাতে দেখা যায়। এরা ধানের সাথে প্রতিযোগিতা করে শতকরা ২৫ ভাগ পর্যন্ত ফলন কমিয়ে দিতে পারে ।
দমন ব্যবস্থাপনা
    জৈবসার ও ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সাথে আগাছার বংশ বিস্তারে সক্ষম বীজ ও কন্দ যেন মিশে বা লেগে না থাকে সেদিকে সতর্কতা মুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
    অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যার মধ্যে উঁচু জমিতে হালকা লাঙল ও আঁচড়া দিয়ে মাটি আলোড়িত করে আগাছা দমন করা যায়। এছাড়া কান্ডসহ হাত বা নিড়ানী দিয়ে তুলেও এ আগাছা দমন করা যায়।
    ধানের জমিতে পানি জমা রাখা এবং ধান পাকার আগেই রগিং করে আগাছা দমন করা যায়।
    আগাছা পরিসকারের সময় কন্দসহ হাত, নিড়ানী বা কাঁচি দিয়ে তুলে হলদে মুথা দমন করা যায় ।
    কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এ আগাছা দমন করা যায় ।
    একই জমিতে বিভিন্ন জাতের ফসল পর্যায়ক্রমে উৎপন্ন করেও এ আগাছা দমন করা যায় ।
    বীজ পাকার আগেই এ আগাছা তুলে ফেলা উচিৎ ।
    আগাছা দমনের জন্য অনুমোদিত আগাছানাশক প্রয়োগ করা।
{বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট}

ছবি নাম মোবাইল
মো: 0

ছবি নাম মোবাইল
মো: 0

ছবি নাম মোবাইল

গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ

১· চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষন ও বীতরন কর্মসূচী।

২· চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও পেয়াজ বীজ উৎপাদন, সংরক্ষন ও বীতরন কর্মসূচী।

৩· মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সার উৎপাদন, সংরক্ষন ও বীতরন কর্মসুচী।

            ৪.  উপজেলা পর্যায়ে কৃষি প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষন কর্মসূচী।

 

গুরুত্বপূর্ন প্রকল্প সমুহ

 

প্রকল্প / কর্মসূচীর নাম

প্রধান প্রধান কার্যক্রম

চাষী পর্যায়ে উন্নত মানের ধান,গমও পাট বীজ উৎপাদন সংরক্ষন ও বিতরন প্রকল্প

প্রদর্শনী স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষন, মাঠ দিবস

চাষী পর্যায়ে ডাল,তেল ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন সংরক্ষন ও বিতরন প্রকল্প

প্রদর্শনী স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষন, মাঠ দিবস

ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রজেক্ট

প্রদর্শনী স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষন, মাঠ দিবস, উদ্ভদ্ধু করন ভ্রমন কর্মসুচী,কৃষি মেলা

বৃহত্তর রংপুর কৃষি গ্রামীন উন্নয়ন প্রকল্প

প্রদর্শনী স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষন, চাষী র‌্যালী,কৃষি মেলা

ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রডাক্টিভিটি প্রজেক্ট

প্রদর্শনী স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষন, মাঠ দিবস, উদ্ভদ্ধু করন ভ্রমন কর্মসুচী,কৃষি মেলা

সমন্বিত শস্য ব্যবস্থাপনা

কৃষক মাঠ স্কুল পরিচালনা

খামার যান্ত্রিকীকরনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প

প্রদর্শনী স্থাপন, মাঠ দিবস

মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহার কর্মসুচী

প্রদর্শনী স্থাপন, কৃষক প্রশিক্ষন, মাঠ দিবস

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার অফিস

দুপচাচিয়া ইউনিয়ন কমপ্লেক্স ( ব্লক অফিস)

দুপচাচিয়া ইউনিয়ন, দুপচাচিয়া সদর উপজেলা, বগুড়া জেলা।